মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

বছরজুড়ে অবহেলার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ধোয়ামোছা শুরু

বছরজুড়ে অবহেলার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ধোয়ামোছা শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আর চার দিন পরই মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটি ঘিরে বেশ জোরেশোরেই চলছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ধোয়ামোছা। অথচ বছরের বাকি ১১টা মাস অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে এই মিনার। শুধু কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারই নয়, দেশের সব শহিদ মিনারের একই দশা, একমাত্র ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলেই শহিদ মিনারের কদর বেড়ে যায়। চলে নানা কর্মযজ্ঞ।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে বেশ জোরেশোরেই চলছে প্রস্তুতি। ধুয়েমুছে শহিদ মিনারের চারপাশ পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

শহিদ মিনারে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। শহিদ মিনারের প্রতি বছরজুড়ে অবহেলার ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহেল রাসেল নামে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস এলে শহিদ মিনারের কদর খুব বেড়ে যায়। অথচ বাকি মাসগুলোতে কারও কোনো খোঁজ রাখার সময় থাকে না। দেখা যায়, অনেক সময় জুতা পরে ওপরে উঠে যান অনেক। অপরিষ্কার-নোংরা করাত নিত্যবিষয়। ভাষাশহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের প্রতি এমন অবহেলা মানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবজ্ঞা করার শামিল। আমাদের উচিত হবে শুধু ফেব্রুয়ারি মাস না, বছর জুড়ে শহিদ মিনারের প্রতি যত্নশীল হওয়া।’

সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদ ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় শহিদ মিনারের আশপাশে ভবঘুরেদের অবস্থান, অসামাজিক কার্যকলাপ, মিটিং-মিছিল ও পদচারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং শহিদ মিনারের একপাশে এসব নিয়ম-কানুনসংবলিত নোটিশ বোর্ড থাকলেও দর্শনার্থীরা মানেন না কোনো নিয়ম।

সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে রাসেলের সঙ্গে থাকা আরেক শিক্ষার্থী  রায়হান বলেন, হরহামেশাই বিভিন্ন সভা-সমাবেশ হয় এই শহিদ মিনারে। যারা এসব করেন তারা শহিদ মিনারের ন্যূনতম আদব করেন না। আমাদের উচিত হবে, ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখানো। নয়তো ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্ম এই সম্মান দেখানোর প্রয়োজনবোধ করবে না। তাই সবার উচিত হবে, নিজে সচেতন হওয়া এবং অন্যদের সচেতন করা।’

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন পরই একুশে ফেব্রুয়ারি; দিনটিকে ঘিরে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আলপনা আঁকাসহ সৌন্দর্যবর্ধনের নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া মিনারের চারপাশ ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তিতে আঁকা হবে দেয়ালচিত্র। এদিকে ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে চার সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ও ১৩টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com